"ভালোবাসা অবিরাম"
বিভাগ: প্রেম, বিচ্ছেদ, ফিরে আসা
লেখক: মারুফ (StorylineBD)।
অধ্যায় ১: প্রথম দেখা
নতুন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর রাফি যেন এক নতুন জগতে প্রবেশ করল। বন্ধুবান্ধব নেই, কারও চেনা মুখ নেই। তার স্বভাবটাই এমন—চুপচাপ, নিরব, অনেকটাই বইয়ের পাতার সঙ্গে কথা বলা মানুষ।
ক্লাসে প্রথম দিন, যখন সবার পরিচয় চলছিল, হঠাৎ এক মেয়ের গলা কানে আসল, “Hi, I’m Naila.”
চোখ তুলে তাকাতেই রাফির মন কেমন যেন হয়ে গেল।
নরম কণ্ঠ, চোখে সাহস, ঠোঁটে হাসি—রাফির চোখে যেন পুরো দুনিয়ার আলো এসে পড়ল এক মুহূর্তে।
অধ্যায় ২: কাছাকাছি আসা
দিন যত এগোতে লাগল, নাইলার সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়তে লাগল। তারা একসঙ্গে প্রজেক্ট করল, ক্যান্টিনে কফি খেল, আকাশের নিচে বসে গল্প করল।
একদিন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল। সবাই ছুটে গেল ছাতার নিচে, শুধু নাইলা আর রাফি রয়ে গেল মাঠে। নাইলা বলল,
“জানো, আমার খুব ইচ্ছে ছিল কাউকে নিয়ে এমন বৃষ্টিতে ভিজতে। আজ পূর্ণ হলো।”
রাফি কিছু বলল না, শুধু তার হাতটা চুপচাপ নাইলার দিকে বাড়িয়ে দিল।
সেই মুহূর্তে দুইটি হৃদয় কথা বলেছিল—নীরবে, গভীরভাবে।
অধ্যায় ৩: প্রেম ও প্রতিজ্ঞা
একদিন ক্লাস শেষে রাফি বলল,
“নাইলা, আমি তোমার চোখের দিকে তাকালেই শান্তি পাই। আমি চাই, আমার সব সকাল তোমাকে দিয়ে শুরু হোক। তুমি কি আমার হবে?”
নাইলার চোখে জল। সে বলল,
“তুমি যদি কখনো আমায় কাঁদাও, আমি তাও তোমাকে ভালোবেসে যাবো।”
তারা প্রেমে পড়ল, সেই নিঃশব্দ চুক্তিতে, যেখানে ভাষা দরকার হয় না।
অধ্যায় ৪: বিচ্ছেদ
কিন্তু ভালোবাসার গল্পে সব সময় সুখ থাকে না।
একদিন নাইলার পরিবার জানিয়ে দিল, তারা তাকে ঢাকার বাইরে পাঠাবে পড়াশোনার জন্য।
“তোমরা কখনো এক হতে পারবে না, আমাদের সম্মান আছে।” – বলেছিল নাইলার বাবা।
রাফি ভেঙে পড়ল। সে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করল। কিন্তু কিছু কাজ হলো না।
নাইলা চলে যাওয়ার আগের রাতে, তারা শেষবার দেখা করল।
নাইলা বলল,
“ভালো থেকো, রাফি। তোমার সঙ্গে আমার সবকিছু ছিল সত্যি। কিন্তু আমি কিছুই রাখতে পারলাম না।”
রাফি শুধু বলল,
“আমি অপেক্ষা করবো... একদিন না একদিন, তুমি ফিরবে।”
অধ্যায় ৫: অবিরাম অপেক্ষা
বছর পেরিয়ে গেল। রাফি কাউকে আর ভালোবাসেনি। প্রতিদিন সে সেই পার্কে যেত, যেখানে তারা বসত, সেই পুরনো কফি শপে যেত, যেখানে তারা গল্প করত।
তার ডায়েরিতে লিখা শেষ লাইনগুলো ছিল —
“আমি জানি না তুমি কেমন আছো, কিন্তু আমার হৃদয়ে তুমি এখনো একইভাবে আছো। সময় পাল্টালেও ভালোবাসা পাল্টায় না।”
অধ্যায় ৬: ফিরে আসা
তিন বছর পর একদিন বিকেলে, হঠাৎ কফি শপে ঢোকে এক চেনা মুখ। রাফি চোখ কচলে দেখল,
– নাইলা!
তিন বছরের অপেক্ষা যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।
নাইলা বলল,
“আমি ফিরে এসেছি, রাফি। আমার হৃদয় তোমার কাছেই ছিল সবসময়।”
রাফি হেসে বলল,
“ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, সেটা কখনো হারায় না।”

Comments
Post a Comment