অজানা আলগা পিরিত: প্রিয় ডায়েরি Part 2
কোম্পানির অফিশিয়াল কাজে আমাদের ঢাকায় আসতে হয়েছিল। সারাদিনের দীর্ঘ যাত্রার পর শরীরটা এতটাই ক্লান্ত ছিল যে, আর কোথাও বের হওয়ার শক্তি ছিল না। সরাসরি হোটেলে গিয়ে উঠলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম, একটা দিন অন্তত পুরোপুরি বিশ্রাম নেব।
পরদিন সকালে হালকা নাস্তা করার জন্য হোটেলের কাছের একটি কফি শপে গেলাম। ভেতরে পা রাখতেই কেন জানি না ঘরের এক কোণে আমার নজর চলে গেল। সেখানে একজনকে বসে থাকতে দেখেই মুহূর্তের জন্য আমার বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। বুকের ভেতর হুট করে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো, যা আমি নিজেও ভাষায় প্রকাশ করতে পারলাম না। নিজেকে কোনোমতে সামলে নিয়ে ওই দিকে আর না তাকিয়ে নিজের মতো দুপুরের খাওয়া শেষ করলাম।
খাবার শেষ করে বিল মিটিয়ে যখন বেরিয়ে আসব, ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা চেনা কণ্ঠ ভেসে এলো— "সোহাগ!"
আমি থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবছি, এই অচেনা শহরে আমাকে কে নাম ধরে ডাকল? কৌতূহল নিয়ে পেছনে তাকাতেই আমার চোখ কপালে উঠল। মেয়েটি আর কেউ নয়, আরোহী!
আমি মুখে হালকা হাসির রেখা টেনে বললাম, "আরোহী যে! এখানে?"
আরোহী একটু অভিমানের সুরে বলল, "তুমি আমাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলে কেন?"
আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিলাম, "আসলে সত্যি বলতে, প্রথমে আমি ঠিক চিনতেই পারিনি।"
আরোহীও হেসে দিয়ে বলল, "আমিও প্রথম দেখায় পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি, কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করার পর চিনতে পারলাম।"
এরপর আরোহী বলল, "অনেকদিন পর দেখা হলো আমাদের, চলো একটু বসি, গল্প করি।" তার কফি খাওয়ার আমন্ত্রণে আমি সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। আরোহী তার বন্ধুদের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল। বেশ কিছুক্ষণ আড্ডা আর পুরোনো দিনের কথা রোমন্থন করে, একে অপরের ফোন নাম্বার বিনিময় করে আমরা বিদায় নিলাম।
রিকশায় ঢাকা ভ্রমণ
কোম্পানির কাজ শেষ হতে এখনো কয়েকদিন বাকি ছিল। তাই ঠিক করলাম, কাজের ফাঁকে বাকি দিনগুলোয় ঢাকা শহরটা ঘুরে দেখব। সেদিন বিকেলে ঘোরাঘুরি শেষে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এমন সময় ফোনে একটি অচেনা নাম্বার থেকে কল এলো। প্রথমে ধরলাম না, কিন্তু পরপর কল আসায় রিসিভ করে সালাম দিলাম।
ওপাশ থেকে সালামের উত্তর দিয়ে একজন বলে উঠল, "আমাকে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলা?"
গলাটা চিনতে পেরে আমি বললাম, "ও, আরোহী!"
আরোহী হেসে বলল, "হ্যাঁ, তাহলে মনে পড়েছে আমাকে?"
আমি বললাম, "হুম, অবশ্যই। বলো, কী খবর?"
বেশ কিছুক্ষণ গল্পের পর আরোহী হুট করে বলল, "চলো, কালকে আমরা দেখা করি।"
আমি কিছুক্ষণ ভেবে বললাম, "আচ্ছা, দেখা করা যায়। কিন্তু কোথায় দেখা করব?"
আরোহী জিজ্ঞেস করল, "তুমি কি ঢাকা শহর চেনো?"
আমি বললাম, "না তেমন একটা চিনি না, অল্পস্বল্প জানি আরকি।"
তখন আরোহী বলল, "তোমার চিন্তা করতে হবে না, তুমি কোথায় আছো বলো, আমি নিজেই এসে তোমাকে নিয়ে আসব।" আমি তাকে হোটেলের ঠিকানাটা দিয়ে দিলাম।
পরদিন সকালে আরোহী হোটেলের সামনে এসে কল দিল। আমি দ্রুত রেডি হয়ে নিচে নেমে গেলাম। বাইরে এসে জিজ্ঞেস করলাম, "আমরা এখন কোথায় যাব?"
আরোহী আমার দিকে তাকিয়ে একটু রহস্যময় হাসি হেসে বলল, "দেখা যাক কোথায় যাওয়া যায়!"
আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম, "তার মানে তুমি নিজেও জানো না?"
আরোহী বলল, "আমরা আজ পুরো ঢাকা শহর রিকশায় ঘুরে দেখব।"
আমিও আর না করলাম না, এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম।
তারপর একটা রিকশা ডেকে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। সারাদিন আরোহীর সাথে ঘুরে বেড়ানোর সেই সময়টা ছিল দারুণ। রাস্তার ধারের টং দোকানের চা, ঝালমুড়ি, ফুচকা—সবকিছুর স্বাদ নিলাম। ঢাকার আনাচে-কানাচে অনেক জায়গায় ঘুরলাম আমরা। সারাদিন আনন্দঘন সময় কাটিয়ে সন্ধ্যার দিকে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেলাম। রাতে ডিনারের পর আরোহীর আবার কল এলো।
ফোন ধরতেই সে কিছুটা ইতস্তত করে বলল, "সোহাগ, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। আসলে আজ সারাদিন একসাথে থেকেও অনেক কিছু বলা হলো না। কালকে কি আবার দেখা করতে পারবা?"
আমি বললাম, "কাল তো দিনের বেলা আমার একটু কাজ আছে। সন্ধ্যার পরে হলে অবশ্য হবে।"
আরোহী খুশি হয়ে বলল, "আচ্ছা, কোনো সমস্যা নেই। আমি গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসব।" আমি বললাম, "ওকে।"
পার্কের সেই বিকেল ও এক চমক
পরের দিন সন্ধ্যার আগেই কোম্পানির কাজ শেষ করে হোটেলে ফিরলাম। ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হতে না হতেই আরোহীর কল এলো। নিচে নেমে দেখি আরোহী দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে বললাম, "বলো, কী বলবে বলছিলে?"
আরোহী চারপাশটা দেখে নিয়ে বলল, "এখানে না, চলো অন্য কোথাও যাই।"
আমি প্রশ্ন না করে ওর সাথে হাঁটতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর বললাম, "কথা বলার আগে চলো আগে কিছু খেয়ে নেওয়া যাক।"
আরোহী মিষ্টি হেসে একটা ব্যাগ দেখিয়ে বলল, "তোমার জন্য আমি বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসেছি।"
আমি অবাক হয়ে বললাম, "বাহ্! ভালোই তো!"
আমরা দুজনে কাছের একটি শান্ত পার্কে গিয়ে বসলাম। আরোহী ব্যাগ থেকে টিফিন ক্যারিয়ার বের করে আমার হাতে খাবার দিল। খেতে খেতে তৃপ্তির সুরে বললাম, "খাবারটা তো দারুণ হয়েছে! আন্টি রান্না করেছে বুঝি?"
আরোহী লাজুক হেসে বলল, "না, এটা আমি নিজে রান্না করেছি।"
আমি প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম, "বাহ্, সত্যি অনেক চমৎকার হয়েছে রান্নাটা।"
খাওয়া শেষ হতেই আরোহীর মুখের চঞ্চলতা কমে গেল। সে কিছুটা গম্ভীর আর আবেগপ্রবণ হয়ে আমার দিকে তাকাল। তারপর ধীর গলায় বলল, "সোহাগ, তোমার সাথে আমার একটা জরুরি কথা ছিল।"
আমি সোজা হয়ে বসে বললাম, "হ্যাঁ আরোহী, বলো। আমি শুনছি।"
তার পরের মুহূর্তে আরোহী যা বলল, তা শুনে আমি সম্পূর্ণ স্তব্ধ আর অবাক হয়ে গেলাম...
পরবর্তীতে কি হবে জানতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন চোখ রাখুন Storyline এ ধন্যবাদ!

Comments
Post a Comment