অজানা আলগা পিরিত: প্রিয় ডায়েরি

 


আমার নাম সোহাগ। ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো আজও খুব মনে পড়ে। আমি তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি। স্কুলে নিয়মিত যাওয়া আমার একদমই পছন্দের ছিল না, শুধু পরীক্ষার আগে আগে ছাড়া আমাকে খুব একটা দেখা যেত না।

​একদিন পরীক্ষার প্রয়োজনে স্কুলে গিয়েছি। স্কুলের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই হঠাৎ এক মায়াবী দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। একটা মেয়েকে দেখতে পেলাম—গায়ের রঙ হালকা ফর্সা, চোখে টানা কাজল আর ঠোঁটে হালকা লাল রঙের লিপস্টিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন আকাশ থেকে কোনো অপ্সরা নেমে এসেছে! আমি একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটা আমার দিকেই আসছিল, কিন্তু আমি এতটাই মগ্ন ছিলাম যে বুঝতেই পারিনি সে কখন আমার ঠিক সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। হুট করে মেয়েটা আমার মাথায় একটা টোকা মেরে বলল, "কী সমস্যা আপনার? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?"

​আমি একদম থতমত খেয়ে বললাম, "সরি।" কথাটি বলেই সে চলে গেল।

​এরপর ক্লাসরুমে ঢুকে তো আমার চোখ ছানাবড়া! দেখি সেই মেয়েটি আমাদের ক্লাসেই পড়ে। আমি যেহেতু নিয়মিত ক্লাস করতাম না, তাই সে যে আমাদের সহপাঠী—তা আমার জানাই ছিল না। ধীর পায়ে গিয়ে নিজের জায়গায় বসলাম।

​কিছুক্ষণ পর স্যার ক্লাসে এলেন। রোল কল করতে গিয়ে যখন আমার নাম ডাকলেন, আমি বললাম— "ইয়েস স্যার।" আমার নাম শুনে স্যার আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন কোনো অশরীরী কিছু দেখেছেন! এরপর স্যার আমাকে নিজের টেবিলের কাছে ডাকলেন। সবার সামনেই বললেন, "এই হলো সেই ছাত্র, যাকে পরীক্ষার আগে ছাড়া স্কুলে দেখাই যায় না!" স্যারের কথা শুনে আমি ভীষণ লজ্জিত হলাম। স্যার আমাকে বললেন, "যাও, নিজের জায়গায় গিয়ে বসো। কারো কাছ থেকে নোট খাতাগুলো সংগ্রহ করে নিও। এটা এসএসসি পরীক্ষা, কোনোভাবেই ফেল করা যাবে না।" আমি মাথা নিচু করে বললাম, "ঠিক আছে স্যার।"

​ক্লাস শেষ হওয়ার পর সেই মেয়েটি সরাসরি আমার বেঞ্চের কাছে এলো। আমি কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে বললাম, "আমি তো আপনাকে সরি বলেছি, আবার কী চান?"

​মেয়েটি হেসে বলল, "আমি ওই জন্য আসি নাই।"

আমি কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে কেন এসেছেন?"

​মেয়েটি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, "আমি আরোহী। আর তুমি?"

আমিও হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, "আমি সোহাগ।"

আরোহী বলল, "আমরা আজ থেকে বন্ধু, কেমন?"

আমিও হেসে সম্মতি দিলাম, "ওকে।"

​সেই দিন থেকে আরোহী আমাকে পড়াশোনার বিষয়ে প্রচুর সাহায্য করতে শুরু করল। নিজে হাতে আমাকে গুছিয়ে সুন্দর সুন্দর নোট তৈরি করে দিত। এভাবেই দেখতে দেখতে পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল, আর সেই সাথে শেষ হলো আমাদের রঙিন স্কুল জীবন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে, এরপর আরোহীর সাথে আমার আর কোনো যোগাযোগ হলো না, দেখা হওয়ার সুযোগও মেলেনি।

​এভাবে অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেল। আমি এখন পড়াশোনা শেষ করে একটি কোম্পানিতে চাকরি করছি। অফিসের কাজে একবার আমাকে ঢাকায় যেতে হয়েছিল। আর ঠিক সেখানেই, ভিড়ের মাঝে হঠাৎ কাউকে দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম...।

গল্পের পরবর্তী অংশ কী হতে পারে? সোহাগ কি আরোহীকে ডেকেছিল, নাকি কোনো এক অজানা কারণে তারা আবার একে অপরকে এড়িয়ে গেল?


   লেখক :- সোহাগ 

Comments