চিঠি, বৃষ্টি আর তুমি - এক অদেখা ভালোবাসার গল্প
তাদের দেখা হয়েছিল কলেজে। তৃষা ছিল শান্ত, বইপ্রেমী আর রায়হান ছিল এক চঞ্চল কবি। রায়হান প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে তৃষার জন্য কবিতা লিখতো, আর তৃষা শুধু একবার মুচকি হাসত। সেই হাসিতেই রায়হানের পৃথিবী থেমে যেত।
একদিন বৃষ্টির ভেতরে রায়হান একটা চিঠি দিয়ে বলেছিল, “একদিন যদি হারিয়ে যাই, বৃষ্টির শব্দে আমার কবিতা খুঁজে নিও।”
তৃষা কিছু বলেনি, শুধু চোখ তুলে তাকিয়েছিল—অভিমান, ভালোবাসা আর ভয় মেশানো এক চাহনি।
এরপর হঠাৎ রায়হান চলে যায় বিদেশে, কোন চিঠি নয়, কোন কবিতা নয়—শুধু দীর্ঘ নিরবতা। সময় চলতে থাকে। তৃষা কখনোই আর কাউকে জায়গা দেয়নি তার মনে। অপেক্ষার নামই যেন ছিল তৃষা।
এবার রায়হান ফিরেছে। সঙ্গে করে এনেছে সেই পুরোনো চিঠি, সেদিনের কবিতা আর এক বুক অনুশোচনা। অনেক খুঁজে সে তৃষার বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়।
তৃষা দরজা খোলে—চোখে চশমা, হাতে এক কাপ চা। তারা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।
রায়হান চিঠিটা বাড়িয়ে দেয়, “তখন দিতে পারিনি… আজ দিচ্ছি।”
তৃষা বলে, “এই চিঠিটা আমি অনেক আগে থেকেই পেয়ে গেছি… প্রতিদিন তোমার কবিতার শব্দে।”
এক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ে রায়হানের চিঠির উপর। তারা দুজনেই জানে, সময় গেছে, কিন্তু ভালোবাসা... সে তো থেমে থাকে না।

Comments
Post a Comment