"অবশেষে তুমি"
বর্ষার এক ভেজা সন্ধ্যায়, একটি বইমেলায় দেখা হয়েছিল অরিন আর মায়ার। মায়া দাঁড়িয়েছিল একটি পুরনো কবিতার বইয়ের সামনে। ছাতা না থাকায় পুরো ভিজে গিয়েছিল। অরিন এগিয়ে এসে বলেছিল, “ছাতা না থাকলে অন্তত একটা গল্প বলুন, যাতে সময়টা ভিজে না যায় একা একা।”
মায়া হেসেছিল। সেই হাসির শব্দটুকু অরিনের মনের মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল — স্থায়ীভাবে।
অধ্যায় ২: কাছাকাছি আসা
বইমেলার পরেও তাদের দেখা হতো — কখনো চায়ের দোকানে, কখনো কলেজ লাইব্রেরিতে। সময়ের সঙ্গে অদ্ভুত এক বন্ধন গড়ে উঠেছিল। মায়া কবিতা ভালোবাসত, অরিন গল্প লিখত। তারা স্বপ্ন দেখত একসাথে জীবন কাটানোর।
তবে মায়ার চোখে ছিল একটা অদ্ভুত দূরত্ব। সে যেন প্রতিটা ভালো মুহূর্তের মাঝেও কষ্ট লুকিয়ে রাখত। অরিন বুঝত, কিন্তু কখনো জিজ্ঞেস করত না।
অধ্যায় ৩: হঠাৎ বিদায়
একদিন হঠাৎ করেই মায়া আর দেখা করতে এল না। ফোন বন্ধ, মেসেজের উত্তর নেই। অরিন পাগলের মতো খুঁজতে লাগল, কিন্তু কোনো খবর নেই। এক বন্ধুর মুখে জানল—মায়ার লিউকেমিয়া ধরা পড়েছে, আর চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে গেছে।
সেই থেকে কেটে গেছে পাঁচ বছর। অরিন আজও লেখে মায়ার জন্য, ব্লগে, খাতায়, মনে।
অধ্যায় ৪: অবশেষে তুমি
একদিন হঠাৎ করে ডাকঘরের একটি চিঠি এল। খামের ওপরে লেখা, “অরিনের জন্য, মায়া”। হাতে কাঁপুনি নিয়ে খুলে পড়ে অরিন:
> “তুই তো জানিস, আমি তোর কাছ থেকে দূরে সরে গেছিলাম, তোর জন্যই। আমি জানতাম, তুই আমাকে ধরে রাখলে আমি কষ্ট পাব না, কিন্তু তুই তোর জীবনটা থামিয়ে রাখবি আমার জন্য। আমি সেটা চাইনি।
আজ আমি জানি, বাঁচা আর মরার মাঝখানে ভালোবাসার নামই সবচেয়ে বড়।
আমি ফিরছি, যদি তুই এখনও অপেক্ষা করিস…”
অরিন চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরল।
শেষ অধ্যায়: ফিরে আসা
স্টেশনে আবার সেই ভেজা সন্ধ্যা। অরিন ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে। এবার আর খালি হাতে নয় — সাথে আছে তার লেখা বই, “অবশেষে তুমি”। ট্রেন থামে, আর সেই ভিড়ের মাঝখান থেকে মায়ার মুখটা দেখা যায় — রোগা, চোখে চশমা, কিন্তু সেই পুরনো হাসি।
দুজনেই জানে—জীবনের সব অপেক্ষার শেষ হয় ঠিক তখনই, যখন ‘সে’ ফিরে আসে।

Comments
Post a Comment