“শেষ ট্রেন”
সন্ধ্যা ৭টা। কমলাপুর রেলস্টেশন কোলাহলমুখর, কিন্তু নীলয়ের চোখে কেবল একটাই জায়গা—প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৪। প্রতিদিন সে এখানে আসে, একটা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করে।
না, ট্রেনের জন্য না। সে অপেক্ষা করে একজন মানুষের জন্য—মীম।
তারা একসাথে পড়াশোনা করত। দুজনেই বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা মানুষ। ধীরে ধীরে একসাথে পড়া থেকে একসাথে হেঁটে বাড়ি ফেরা, আর একদিন—হঠাৎ বলা “ভালোবাসি”।
মীম কখনো কিছু বলেনি, শুধু হেসে বলেছিল,
— “আমার স্বপ্নের অনেক গন্তব্য আছে, আর তুমি পারবে না হয়তো সাথে চলতে।”
নীলয় উত্তর দিয়েছিল,
— “তুমি চলো, আমি অপেক্ষা করবো... ঠিক এখানে, প্রতিদিন।”
সেইদিনই মীম বিদেশ চলে যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। যাওয়ার আগে বলেছিল—
— “যদি একদিন ফিরি, প্লিজ... সেই প্ল্যাটফর্মে থেকো।”
চার বছর পেরিয়ে গেছে। নীলয় প্রতিদিন আসে, সেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকে, হাতে নিয়ে থাকে একগুচ্ছ লাল গোলাপ। কেউ দেখে ভাবে হয়তো পাগল, কিন্তু সে জানে—প্রেম মানেই বিশ্বাস আর অপেক্ষা।
আজও এসেছে সে। কিন্তু আজকের দিনটা আলাদা। বাতাসটা অন্যরকম, হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসে একটি চেনা কণ্ঠ,
— “নীলয়...!”
ঘুরে দাঁড়ায় সে।
একটা মেয়ের হাতে সুটকেস, চুলে হালকা সাদা রেখা, মুখে ক্লান্তি—কিন্তু চোখে ঠিক আগের সেই মীম।
নীলয়ের চোখ ভিজে যায়। হাসি মিশে কাঁদে সে।
— “তুই এলি!”
মীম হেসে বলে,
— “তুই তো ছিলি... ঠিক এখানেই।”
একটা ট্রেন এসে থামে। কিন্তু তারা আর কোথাও যায় না। বসে পড়ে বেঞ্চিতে, দুজনের মাঝখানে অনেক বছর, অনেক গল্প আর অশেষ ভালোবাসা।
শেষ লাইন:
শেষ ট্রেনটা আজও এল, তবে তারা উঠে পড়েনি। কারণ অপেক্ষার গল্পটা আজ শেষ হয়েছে, শুরু হয়েছে একসাথে পথচলার গল্প।

Comments
Post a Comment