"অভিমানী তুমি"

A sad romantic love story in Bengali about separation and emotions

 অধ্যায় ১: শুরুটা হঠাৎ


রোদেলা দুপুর। ইউনিভার্সিটির নতুন সেমিস্টার শুরু। সেই প্রথম দেখা সাদিক আর আলিফার। দুজনেই একই ক্লাসে, কিন্তু দুজন দুপ্রান্তের মানুষ—সাদিক শান্ত, লেখাপড়ায় মনোযোগী আর আলিফা সবসময় হাসিখুশি, চঞ্চল, বন্ধুদের প্রিয়।


প্রথমে কথাবার্তা ছিল খুব সাধারণ, গ্রুপ প্রেজেন্টেশনের মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে একে অপরের অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তবে সাদিকের দৃষ্টিতে আলিফা ছিল কিছুটা অন্যরকম—তাকে দেখলেই মনে হতো জীবন একটু বেশিই সুন্দর।


অধ্যায় ২: ভালোবাসার স্বীকারোক্তি


এক সন্ধ্যায় ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামে। ছাতাটা আলিফার হাতে, কিন্তু সাদিক ভিজে যাচ্ছে। আলিফা বলল, “আসো, একসাথে চলি।” সেই মুহূর্তেই সাদিকের ঠোঁট ফেটে বেরিয়ে আসে, “তুই জানিস, আমি তোকে অনেক ভালোবাসি...”


আলিফা স্তব্ধ। এক চিলতে হাসি দিয়ে বলল, “জানি না, তবে বুঝেছি। আমিও তোকে ভীষণ পছন্দ করি রে…”


অধ্যায় ৩: সময়ের নিষ্ঠুরতা


ভালোবাসার এই ছয়টা মাস যেন ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু হঠাৎ একদিন আলিফা কাঁদতে কাঁদতে জানায়—তার বাবা-মা তার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। তারা কখনোই সাদিককে মেনে নেবে না, কারণ সাদিকের পরিবারের অবস্থা ভালো নয়।


সাদিক বলেছিল, “চলে যাবি না প্লিজ, আমি সব বদলে ফেলব। আমাকে সময় দে।”

আলিফা শুধু বলেছিল, “ভালোবাসা মানেই তো সবসময় একসাথে থাকা নয়... কখনও কখনও দূরে গিয়েও ভালোবাসতে হয়।”


অধ্যায় ৪: অভিমান ও বিদায়


বিয়ের দিন সাদিক অনেক দূর থেকে দেখেছিল, আলিফা সাজে বসে আছে। তার চোখের কোণেও পানি ছিল, ঠিক যেমন সাদিকের চোখে।

সেইদিন থেকেই সাদিক আর কারও সাথে কথা বলেনি, হঠাৎ করে হারিয়ে যায় সবকিছু থেকে।


অধ্যায় ৫: দশ বছর পর...


একদিন এক পুরোনো বইয়ের ভিতর থেকে পড়ে যায় একটা ছোট্ট চিরকুট—


“তুই এখনো কি সেই আগের মতোই ভালোবাসিস আমাকে? আমি তো এখনো তোকেই ভালোবাসি... কিন্তু পারিনি তোকে পেতে... তুই ছিলি আমার অভিমানী, আজীবন..."


সাদিক চোখ বন্ধ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেয়। মুখে একটা মুচকি হাসি—ভালোবাসা হারিয়ে যায় না, শুধু সময়ের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে।

Comments