মধ্যরাতের ভুল কল

 

---------------------------------------------------------------

রাত তখন প্রায় ২টো। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আর আমি ল্যাপটপে মাথা গুঁজে আমার ব্লগের শেষ পোস্টটা রেডি করছি। হঠাৎ ফোনের ভাইব্রেশনে মেজাজটা বিগড়ে গেল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি, কোনো নম্বর নেই—স্রেফ লেখা 'Private Number'।

​বিরক্তি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একটা খসখসে কণ্ঠস্বর ভেসে এল, "সে আসছে... দরজাটা ঠিকমতো লক করেছ তো?"

​আমি ভাবলাম হয়তো কোনো বন্ধু মজা করছে। হেসেই বললাম, "কে আসছে ভাই? আর দরজায় তো বড় তালা ঝোলানো, চিন্তা নেই।"

​বলেই ফোনটা কেটে দিলাম। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবার সেই একই নম্বর থেকে কল। এবার ওপাশের আওয়াজটা আরও বেশি নিচু আর গম্ভীর, "তালাটা তো বাইরে থেকে দেওয়া... ভেতরে যে আছে সে বেরোবে কী করে?"

​বুকের ভেতরটা কেমন জানি ধক করে উঠল। আমি এই ফ্ল্যাটে একা থাকি। ঘরের ভেতর কেউ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, বেডরুমের আলমারির পাল্লাটা সামান্য খোলা। আমি নিশ্চিত ছিলাম রাতে ঘুমানোর আগে ওটা বন্ধ ছিল।

​বসা থেকে উঠে ধীর পায়ে আলমারির দিকে এগোলাম। হাত বাড়িয়ে যেই পাল্লাটা ধরব, ঠিক তখনই আবার ফোনটা বেজে উঠল। ফোনটা হাতে নিতেই দেখলাম একটা মেসেজ এসেছে:

​"পিছনে তাকিও না।"

​পুরো শরীর হিম হয়ে গেল আমার। ঠিক সেই মুহূর্তে মনে হলো, আমার ঘাড়ের ঠিক পেছনে কেউ একজন খুব জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে। বাতাসের সেই ঝাপটা এতটাই বাস্তব যে আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল।

​পাগলের মতো ঘুরে তাকালাম আমি। কেউ নেই। পুরো ঘর খালি। কিন্তু আলমারির সেই খোলা পাল্লা দিয়ে একটা লম্বা, সাদাটে হাত বেরিয়ে আসছিল যেটা আমি ঘোরার সাথে সাথে ভেতরে সেঁধিয়ে গেল।

​ল্যাপটপের আলোয় দেখলাম স্ক্রিনে একটা টেক্সট এডিটর খোলা, সেখানে আমি কিছু লিখিনি, অথচ বড় বড় অক্ষরে লেখা উঠছে:

​"তুমি দরজা বন্ধ করেছ ঠিকই, কিন্তু আয়নাটা ঢাকতে ভুলে গেছো।"

​আমি কাঁপতে কাঁপতে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার দিকে তাকালাম। আয়নায় আমার প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে না। সেখানে দেখা যাচ্ছে আমার পেছনের দেওয়ালটা, আর সেই দেওয়ালে ঝুলে থাকা আমার ছায়াটা একা একাই হাত নাড়ছে।

​সেদিন থেকে আমি আর একা ঘরে শুতে পারি না। এখনো মাঝরাতে কোনো আননোন নম্বর থেকে কল এলে বুকটা কেঁপে ওঠে। কারণ আমি জানি, সে এখনো সেই আয়নার ওপারেই আছে, সুযোগ খুঁজছে বেরিয়ে আসার!

Comments

Post a Comment